ওসি জামাল উদ্দিনের কৌশলে অপরাধীদের তৎপরতায় লাগাম
সীমিত জনবল নিয়ে বন্দরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা কৌশলে কাজ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন। অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারি, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ জুন ২০২৬ সালে সোনারগাঁ থানা থেকে বদলি হয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন জামাল উদ্দিন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দৃশ্যমান তৎপরতার পাশাপাশি কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়ে তিনি থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার অপরাধী, তাদের সহযোগী, সম্ভাব্য আশ্রয়দাতা ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত জনবল না থাকলেও অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ওসি জামাল উদ্দিন। ফলে পুলিশের তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের কাছে অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনার কারণে বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারেও সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার হয়েছে। কোথাও অপরাধীদের আনাগোনার খবর পাওয়া গেলে শুধু থানার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নিয়ে সরাসরি মাঠে নামছেন ওসি জামাল উদ্দিন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
থানায় বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওসি জামাল উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তা বেড়েছে বলে তাদের দাবি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই মাসে ওসি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বন্দর থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলার আসামি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্তসহ প্রায় ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে মাদক, চুরি, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে একাধিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের জনবল সীমিত হওয়ায় বন্দর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৌশলগত পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অপরাধীদের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত অভিযান—এই পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি জামাল উদ্দিন।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা বাড়লে বন্দরে অপরাধ দমন আরও কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বন্দর থানার বর্তমান পুলিশি তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দায়িত্ব পালনে ওসি জামাল উদ্দিনের কৌশলী ভূমিকা আগামী দিনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...