সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান- দেশজুড়ে সংবাদ ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে এলজিইডির পরিচ্ছন্নতা অভিযান- দেশজুড়ে সংবাদ বন্দর কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন ডাঃ অসীম ৩০ বছর ৯ মাসের কর্মজীবনের ইতি, অশ্রুসিক্ত বিদায় হাজী ইব্রাহিম আলমচান স্কুলের শিক্ষক মিজানুর রহমানকে ঢাকায় এআইএনইউ হাসপাতালের উদ্যোগে মেডিক্যাল ট্যুরিজম সংশ্লিষ্টদের সম্মানে নৈশভোজ-দেশজুড়ে সংবাদ নাগরিক অধিকার ফোরামের সাথে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের মতবিনিময়।অপরাধ দমনে সবার সহযোগিতা চাইলেন এসপি। নতুন প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু ‘হ্যালো নারায়ণগঞ্জ’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের-দেশজুড়ে সংবাদ খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল-দেশজুড়ে সংবাদ নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে মাঠে ডিসি রায়হান কবির – দেশজুড়ে সংবাদ পেশাদারিত্ব ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি পিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান

ক্যামেরার লেন্সে ৩৬ বছরের পথচলা—বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে মাহমুদ হাসান কচির শুভেচ্ছা- দেশজুড়ে সংবাদ

দেশজুড়ে সংবাদ ডেস্ক / ৩০০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন

ক্যামেরার লেন্সে ৩৬ বছরের পথচলা—বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে মাহমুদ হাসান কচির শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৯ আগস্ট, বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস। ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য, মানুষের জীবন, সমাজের বাস্তবতা, ইতিহাস ও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ধারণ করা আলোকচিত্রীদের সম্মান জানাতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়।

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে দেশের ক্ষুদে ফটো সাংবাদিক হিসেবে ৩৬ বছরের পথচলার স্মৃতিচারণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের প্রবীণ ফটোসাংবাদিক মাহমুদ হাসান কচি। একই সঙ্গে তিনি নবীন-প্রবীণ সব আলোকচিত্রী ও ফটোসাংবাদিককে জানিয়েছেন আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন।

মাহমুদ হাসান কচি বলেন, “বাংলাদেশের একজন ক্ষুদে ফটো সাংবাদিক হিসেবে জীবনের ৩৬ বছর ফটোগ্রাফির সঙ্গে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। দেশের বহু ক্লান্তিলগ্নে আমার তোলা ছবি দেশের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এখনও অসুস্থ শরীর নিয়েও সুযোগ পেলেই দু-চারটি ছবি তুলি। ক্যামেরা আমার কাছে শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়; এটি সময়, ইতিহাস ও মানুষের গল্প ধরে রাখার একটি মাধ্যম।”

তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি কেবল একটি দৃশ্যকে ক্যামেরাবন্দি করার নাম নয়। একটি ছবি অনেক সময় হাজারো শব্দের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে মানুষের আবেগ, সমাজের বাস্তবতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে তুলে ধরতে পারে। একটি স্থিরচিত্র হয়ে উঠতে পারে একটি সময়ের দলিল কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি।

নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহমুদ হাসান কচি জানান, নারায়ণগঞ্জের ফটোসাংবাদিকদের সহযোগিতায় তিনি একসময় ফটো জার্নালিস্ট ফোরাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এর দুই বছর পর অগ্রজ ফটোসাংবাদিক শফিউদ্দিন বিটুর আহ্বানে নারায়ণগঞ্জের ফটোসাংবাদিকদের দুটি পৃথক গ্রুপকে একত্রিত করে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।

তিনি আরও বলেন, সকলের অনুরোধ ও সহযোগিতায় তিনি সভাপতি থাকাকালে সংগঠনের জেলা কার্যালয়ের অনুমোদন লাভ করেন। এরপর কমিটির সাবেক সভাপতি ও সদস্যদের নিয়ে জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে তাপস সাহা, হাজী হাবিবুর রহমান শ্যামল ও এনামুল হক সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় কার্যালয়টির ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়।

মাহমুদ হাসান কচির ভাষায়, “একটা সময় নারায়ণগঞ্জে ফটোসাংবাদিকদের বসার জন্য কোনো অফিস ছিল না। আজ সেখানে একটি সুন্দর ও সুসংগঠিত কার্যালয় রয়েছে। দেশের সেরা ফটোসাংবাদিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কার্যালয়টি অন্যতম—এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। যারা আমাদের এই পথচলায় সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে নারায়ণগঞ্জের ফটোসাংবাদিকদের অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের গর্ব বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি প্রয়াত ফটোসাংবাদিক আলহাজ্ব জহিরুল ইসলাম জহির, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রনি এবং উপদেষ্টা মতিউর রহমান সেন্টুসহ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রয়াত সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

একই সঙ্গে সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত সকল পেশাজীবী এবং মূলধারার সাংবাদিকদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে মাহমুদ হাসান কচি বলেন, ফটোসাংবাদিকতা সংবাদমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন দক্ষ ফটোসাংবাদিক শুধু একটি ছবি তোলেন না; বরং আলো, ছায়া, সময়, পরিবেশ ও মানুষের অভিব্যক্তির সমন্বয়ে একটি ঘটনার অন্তর্নিহিত গল্পকে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে ফটোগ্রাফির প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সাদাকালো আলোকচিত্র থেকে রঙিন ছবি, এরপর ডিজিটাল ক্যামেরা—আর বর্তমানে স্মার্টফোন; প্রযুক্তির প্রতিটি পরিবর্তন ছবি তোলাকে করেছে আরও সহজ ও বিস্তৃত। তবে প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, একটি ভালো ছবি তৈরির জন্য প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, ধৈর্য ও মানুষের গল্প বোঝার সক্ষমতা।

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে তিনি দেশের সব নবীন ও প্রবীণ ফটোগ্রাফার, ফটোসাংবাদিক এবং আলোকচিত্রপ্রেমীকে আন্তরিক মোবারকবাদ, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি প্রত্যাশা করেন, আলোকচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষের জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস আরও সুন্দরভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিক হয়ে উঠবে সময়ের সাক্ষী, মানুষের গল্পের দলিল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান স্মৃতি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এ ক্যাটাগরীর আরো খবর..