মদনগঞ্জ সাব পোস্ট অফিসে মৃত্যুফাঁদে চলছে ডাকসেবা
ছাদ থেকে ঝরছে কংক্রিট, বৃষ্টিতে ডুবে অফিস—দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগ। অথচ নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ সাব পোস্ট অফিসে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে সরকারি সেবা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে অফিসটি। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টার ও কংক্রিট খসে পড়ছে, বর্ষায় চুইয়ে পড়া পানিতে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, চিঠি ও পার্সেল। তবুও যেন দেখার কেউ নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির ছাদ, দেয়াল ও মেঝের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে এসেছে। পুরোনো দরজা-জানালাগুলোও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে অফিসকক্ষের ভেতরে, মেঝেতে জমে যায় পানি। এতে সরকারি নথি সংরক্ষণ এবং ডাকসেবা পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় হঠাৎ পোস্টমাস্টারের চেয়ার সংলগ্ন স্থানেই ছাদের কংক্রিটের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। অল্পের জন্য রক্ষা পান কর্মকর্তা ও উপস্থিত সেবাগ্রহীতারা। ঘটনাটি ভবনটির ভয়াবহ ঝুঁকির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
মদনগঞ্জ সাব পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার জহিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে অফিস করি। কখন ছাদ ভেঙে মাথার ওপর পড়ে, সেই ভয় সবসময় কাজ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই অফিসের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। শুনেছি ডাক বিভাগের নিজস্ব জায়গাও রয়েছে। সেখানে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা নিরাপদ স্থানে অফিস স্থানান্তর করা এখন সময়ের দাবি।”
অফিসের এক কর্মচারী বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি। আজও আপনার সামনে ছাদের কংক্রিট ভেঙে পড়েছে। ভাগ্য ভালো কেউ আহত হয়নি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে?”
ডাকসেবা নিতে আসা এক সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো সরকারি অফিস বলে মনে হয় না। মনে হয় বহু বছরের পরিত্যক্ত কোনো ভবনে এসেছি। মানুষের জীবন যেখানে ঝুঁকির মুখে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির বেহাল অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা নিরাপদ স্থানে অফিসটি স্থানান্তরের দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের এমন নাজুক অবস্থা শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নয়, প্রতিদিন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ। অন্যথায় যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অপূরণীয় প্রাণহানির ঘটনা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...