৩০ বছর ৯ মাসের কর্মজীবনের ইতি, অশ্রুসিক্ত বিদায় শিক্ষক মিজানুর রহমানকে
বন্দর প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ৩০ বছর ৯ মাসের শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন হাজী ইব্রাহিম আলমচান মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনের সহকর্মী, প্রিয় শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত আবেগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তাঁকে বিদায় জানানো হয়।
এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের হলরুমে শিক্ষক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় আবেগময় পরিবেশ। অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, কারও চোখে দেখা যায় অশ্রু। দীর্ঘদিনের স্মৃতি আর ভালোবাসার টানে বিদায়ের মুহূর্তটি হয়ে ওঠে সবার জন্য হৃদয়স্পর্শী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী ইব্রাহিম আলমচান মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.এইচ.এম. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রভাষক মো. শহিদুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আশরাফুজ্জামান, এমদাদ হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, সুমন, শিউলী আক্তার, নাসরিন সুলতানা, রোজী আক্তারসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা বশির উদ্দিন। দোয়া শেষে বিদায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং কর্মজীবন-পরবর্তী জীবনের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মিজানুর রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। তিনি আমাকে দীর্ঘ ৩০ বছর ৯ মাস সুস্থতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মজীবন অতিবাহিত করার তাওফিক দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।”
তিনি বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভালোবাসা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। একই সঙ্গে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসা ও স্মৃতি কখনো ভুলে যাওয়ার নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মিজানুর রহমান বলেন, “আমার সহকর্মীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার সকল ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি রইল অকৃত্রিম ভালোবাসা। কর্মজীবনের এই বিদায়ক্ষণে সবার কাছে আমার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।”
দীর্ঘ ৩০ বছর ৯ মাসের শিক্ষকতা জীবনে মিজানুর রহমান অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার কথা অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন সহকর্মীরা। শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, বরং প্রজন্ম গঠনের দায়িত্ব—দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
বিদায়ের শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে আবেগের ছায়া। প্রিয় শিক্ষক ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। হাসি-কান্না আর স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দীর্ঘ কর্মজীবনের এই আনুষ্ঠানিক বিদায়।
কর্মজীবনের অধ্যায় শেষ হলেও মিজানুর রহমানের সঙ্গে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও অসংখ্য স্মৃতি তাঁদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে—এমন আবেগঘন অনুভূতিই ফুটে ওঠে অনুষ্ঠানে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...