ভোগান্তিতে রোগীরা
তেঁতুলিয়ায় টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি
জুলহাস উদ্দীন,তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।এতে করে হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে পড়ছেন বিপাকে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি পালন করতে দেখা যায়। ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করণের দাবি তাদের।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়,ডাক্তার দেখাতে পারলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতির কারণে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ নিতে পারছেন না।এতে করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।রোগী ও স্থানীয়রা জানান, এ ভোগান্তি নিরসনে সরকারের উচিত দ্রæত দাবি মেনে নেওয়া।
কর্মসূচিতে অংশ নেয়া তেঁতুলিয়া উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট আতিয়ার রহমান,জালাল উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি টিমওয়ার্ক। ওষুধ প্রস্তুতি,সংরক্ষণ,মান নিয়ন্ত্রণ,বিতরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার পরও সেক্টরটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত ৩১ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার আমরা। দ্রæত আমাদের দাবি মেনে নেয়া হোক। তা নাহলে এ কর্মসূচি আরও জোরদার হওয়ার কথা জানান তারা।
বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সোহাগ রানাসহ কয়েকজন জানান, আজ আমরা আমাদের দাবি আদায়ের জন্য এ কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছি। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, ল্যাব কার্যক্রম, রেডিওলজি, থেরাপি, নমুনা সংগ্রহ, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে’সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো যেকোনো মহামারিতেই এই পেশার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমরা বৈষম্যের শিকার।
ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্টরা জানায়, বছরের পর বছর অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার এই পেশা। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা বহু আগেই ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ডিপ্লোমাধারীদের দ্বিতীয় শ্রেণি ও দশম গ্রেড দেওয়া হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ক্ষেত্রে সে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অতিদ্রæত সরকারকে টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের দাবি মেনে নেয়ার দাবি তাদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা.সৈয়দ মাহমুদুর রহমানের সাথে রোগীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে কথা বললে তিনি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...